জ্বরজড়িত জীবন

আমার জ্বর মাপার একটা নিজস্ব থার্মোমিটার আছে মাথার মধ্যে। জ্বর ১০৪ ছাড়ালে আমি দার্শনিক হয়ে উঠি। তখন আমার মনটা ভীষণ আর্দ্র হয়ে ওঠে। আচরণ ভারি ভদ্র নম্র হয়ে যায়। অর্ধচেতন অবস্থায় আমি মানুষজনের কাছে মাফ চাওয়ার কথা ভাবতে থাকি। পৃথিবীর সমস্ত অন্যায়কারীর গুরুতর অপরাধও মাফ করে দিতে ইচ্ছে হয়।
গতরাতে এইসব লক্ষন একটু একটু দেখা দিতে শুরু করেছিল। বুঝলাম, অবস্থা বেগতিক, জ্বর বেড়ে গেছে। মেপে দেখলাম, ১০৩। অর্থাৎ, দার্শনিক হতে আর অল্প একটু বাকি। রিস্ক নিতে চাইলাম না। কাল জ্বরের তৃতীয় রাত ছিল। অতএব, টুপ করে একটা ওষুধ খেয়ে ফেললাম।
আধা ঘন্টা পর মনে হল, তাবৎ অন্যায়কারীকে কি ক্ষমা করে দেব? নাহ্! এ পৃথিবীতে কে কার! ক্ষমাতে কী আসে যায়?
আমি কি কারোর কাছে ক্ষমা চাইব? এহ্! কোন দুঃখে? যদি কেউ দুঃখ পেয়ে থাকে আমার কাছ থেকে, সেটা কি আর আমার দোষ! আমি তো নিমিত্ত মাত্র!
আমার জাগতিক কুযুক্তি, ইগো যেহেতু আবারো টনটনে হয়ে গেছে, অতএব, জ্বর আপাতত ছেড়ে যাচ্ছে এবং আমি হুঁশে ফিরছি! 😆

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s