বাঁধন বিহীন সেই যে বাঁধন…

নির্বাণ লাভ করার পথে এগিয়ে যাচ্ছি। প্রিয়জন এবং প্রিয় দল- উভয়ের কাছ থেকেই প্রত্যাশামুক্ত হয়ে বসে আছি।
মায়াবন বিহারিনী হরিণী…কেন তারে ধরিবারে করি পণ অকারণ… বাংলাদেশ সমর্থকদের কখনো কখনো এমন দশাই হয়। স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় নীল হয়ে যাওয়ার কষ্ট কতবার পেতে হয়েছে! তবু স্বপ্ন দেখি। আমার মত কিছু ভীরু সমর্থক আছে যারা খেলা দেখতেও ভয় পায়! যদি আবার বুক ভাঙে। বিগত বছর দুয়েক ধরে, বাংলাদেশের খেলা দেখতে বসলে আমার মিনি হার্ট অ্যাটাক হয় প্রায়ই। আমি আজ খেলা দেখি নি।
নিজেকে সকল প্রত্যাশার ঊর্ধ্বে নিয়ে যেতে চাইলাম। ভেবে দেখলাম, বাংলাদেশের খেলা না দেখে যদি থাকতে পারি, তাহলে নির্বাণ লাভ করতে আর বাকি থাকবে না। কিন্তু হঠাৎই আবিষ্কার করলাম- আমার আঙুল প্রতি ১০ সেকেন্ড অন্তর অন্তর গুগল করছে। আমার বিস্ময় বালকগুলো অসাধারণ স্কোর করছে!

খেলা দেখতে খুব ইচ্ছে করছিল। কিন্তু মনে হল, দেখতে বসলে যদি হেরে যায়! আমি খেলা দেখে বহুবার জিতেছে বাংলাদেশ। কিন্তু আজ মাঝপথে দেখতে গেলে যদি ফ্লোটা নষ্ট হয়ে যায়! প্রতিটা বাংলাদেশ সমর্থকদের মনেই বোধহয় একবার হলেও এরকম কুসংস্কার দানা বাঁধে। অনেকের শুভ স্থান থাকে, শুভ চেয়ার থাকে- ওখানে বসে খেলা দেখলে সেদিন বাংলাদেশ জেতে। এই বিরাট পৃথিবীর একটি স্বাধীন দেশের এগারোটা মানুষের স্কিল আর ডেডিকেশনের পাশাপাশি আমার শুভ চেয়ারটাও যেন জয়কে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে। কী অদ্ভূত সংস্কার! !

হতবিহ্বল অবস্থায় বসে আছি- হঠাৎ আমার হোয়্যাটসঅ্যাপ টিক টিক করে উঠল। বিজাতীয় ভাষায় মেসেজে লেখা- “বাংলাদেশ টিমের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, আজ একজনের হৃদয়টাকে অক্ষত রাখল বলে।” বলতে ইচ্ছে হল, “ইস্! দল বুঝি আমার একার? তোমার না?” পরে মনে পড়ল, আসলেই তো, এই দল তো ওর নয়। তবু কত খুশি ও! আমার দুঃখে ৩০০০ কিমি দূরে বসেও ছেলেটা প্রতিমূহুর্তের আপডেট রাখল! জয় নিশ্চিত হবার সাথে সাথে আমার সাথে শেয়ার করল।
এবার চোখে পানি এসে গেল। প্রিয় দল এবং প্রিয়জন যখন প্রত্যাশার অতীত কিছু দেয় তখন এভাবেই কান্না পায়। নির্বাণলাভ করা আর হল না। বাঁধন বিহীন সেই বাঁধনে তারা আমায় বাঁধিল…

Advertisements