​ছদ্ম পুরুষবাদী থেকে সাবধান

(লেখাটি ৩১ জুলাই, ২০১৭ উইমেন চ্যাপ্টারে ছাপা হয়েছিল)

নতুন একটা ফ্যাশন চালু হয়েছে- নারী পরিচয়কে ব্যবহার করে পুরুষবাদের জয়গান গাওয়া। সুচিন্তিত, যৌক্তিক, ভিন্নমতের প্রতি আমি বরাবরই শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু নিজের মতামত প্রচার করতে গিয়ে কেউ যদি একটা গোটা গোষ্ঠীকে অভব্য ভাষায় আক্রমণ করে, তাহলে, সেটা ভারি আপত্তিকর। 

আমার এই লেখাটি মূলত একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া। এক অনলাইন কাগজে অত্যন্ত আপত্তিকর শিরোনামের একটি লেখা চোখে পড়ল – “যে নারী পুরুষের প্রিয় হতে পারে না, সেই হয়ে ওঠে নারীবাদী।“ এই অদ্ভূত, একপেশে শিরোনাম দেখে বিস্মিত হলাম। কিন্তু ভীষণ বিপর্যস্ত লাগল যখন দেখলাম লেখাটি লিখেছেন একজন নারী। লেখার ছত্রে ছত্রে তার এই নারী পরিচয়কে তিনি তার আক্রমণের লাইসেন্স হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

লেখার আপত্তিকর অংশগুলো চিহ্নিত করা যাক।

প্রথমত, তিনি একটি জেনারালাইজেশন করেছেন- সকল নারীবাদীই পুরুষের অপ্রিয়। ‘সকল গরু ঘাস খায়’এর মত একটি সহজ সমীকরণ টেনেছেন। যে কোন আধিপত্যবাদী কুতার্কিকরা তাই-ই করেন। যেমন, সীমিত জ্ঞানের অধিকারী শাদা আধিপত্যবাদীরা সকল কালো মানুষকে ক্রিমিনাল মনে করেন। উনিও তাই করলেন। অথচ, আমি তাকে ভূরি ভূরি উদাহরণ দেখাতে পারব যেখানে একজন নারীবাদী মেয়ে সুখে শান্তিতে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ী নিয়ে সংসার করছে। সেরকম অনেক মেয়ে আমার ফ্রেণ্ডলিস্টেই আছে- কেউ পেশায় সাংবাদিক, কেউ শিক্ষক, কেউ চিকিৎসক। অসংখ্য পুরুষবাদীর মুখে ঝামা ঘষে দিয়ে সেই নারীবাদী মেয়েরা তাদের প্রতিবাদী ভূমিকার ক্ষেত্রে স্বামীর সমর্থন ও সহযোগিতা পাচ্ছেন; তারা পুরুষের প্রিয়। অতএব, পুরুষের স্বীকৃতি আদায়ে ব্যর্থতা = নারীর নারীবাদী হয়ে ওঠা জাতীয় অনুসিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হল।

দ্বিতীয়ত, পুরুষের প্রিয় হয়ে ওঠাটাই কি একটা মেয়ের জীবনের অন্যতম লক্ষ্য? ধরা যাক, একটি মেয়ে সংবাদপাঠিকার কাজ করেন। তা, তার জীবনের প্রথম সংবাদ পাঠের পর তিনি কি শুধুই পুরুষ অডিয়েন্সের মতামত নেবেন? কোন মেয়ে যদি তাকে বলেন, আপু, আপনার খবর পড়া আমার খুব ভাল লেগেছে, তাহলে, সেই সংবাদপাঠিকা কি বলবেন যে আপনি একটা মেয়ে, তাই, আপনার কমপ্লিমেন্ট আমি নেব না! এমন কোন পেশার কথা তো আমি মনে করতে পারছি না যেখানে টার্গেট অডিয়েন্স শুধুই পুরুষ। একমাত্র যৌনকর্মী এবং জেন্ডার স্পেসিফিক কোন প্রোডাক্টের বিক্রেতা ছাড়া আর কেউ বোধহয় নির্দিষ্ট একটি লিঙ্গকে টার্গেট করে থাকেন না।

যে কোন সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষ অন্যের স্বীকৃতি চায়। আমি যদি সাজগোজ করি, তাহলে যে কারোর মুখ থেকে প্রশংসা শুনতেই আমার ভাল লাগে। অফিসে আমি একটা নতুন ড্রেস পরে আসার পর আমার সহকর্মীরা যদি সেটা খেয়াল করে, আমার ভাল লাগে। সে সহকর্মী পুরুষই হোক, আর মেয়েই হোক। আমার জুনিয়র মেয়েটা আমার লুক নিয়ে খুব মাথা ঘামায়। আমার ড্রেসগুলো তার মুখস্থ। কখনো কখনো সে আমাকে কোথাও যাওয়ার আগে বলে রাখে, আপু, ওই থ্রী-পিসটা পরলে তোমাকে অনেক সুন্দর লাগে, কাল ওইটা পরে আসবা। কিংবা এই ওড়নাটা এই জামার সাথে ম্যাচ করে না, এটা পোরো না। আমি ওর মতামত গুরুত্ব দিয়ে শুনি। কোন কোন ছেলে সহকর্মী আমার নতুন দুল দেখে তারিফ করে। কেউ কেউ আবার এটাও বলে, এই দুলটা কালকের জামাটার সাথে বেশি মানাত। একজন তো আমার গিফট কেনার সময় এটাও বুঝতে পারে, কোন রংটা আমার পছন্দ হবে, আর কোনটা হবে না। অথচ আমি আমার প্রিয় রং নিয়ে তাকে কিছু বলি নি কখনও। এদের মতামতও আমার কাছে সমান গ্রহণযোগ্য। আমরা প্রিয় হতে ভালবাসি। আমরা স্বীকৃতি চাই। তবে সেটা নির্দিষ্ট করে কেবলই একটি শ্রেণীর কাছ থেকে নয়- নারী-পুরুষের উভয়ের স্বীকৃতি পেতেই আমাদের ভাল লাগে। এবার কি ওই লেখিকা আমাকে উভকামী বলবেন? বলতেও পারেন, কারণ পুরুষের প্রিয় হতে না চাওয়া মেয়েদের উনি সমকামী বা হিজড়া মনে করেন। 

না, বেশিরভাগ মেয়েই পুরুষের গায়ে পড়া প্রিয়ত্ব এড়িয়ে চলে। আমি রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় কখনোই চাইব না, একটা অজানা ছেলে আমাকে দেখে, ‘ওয়ে সুন্দরী’ বলে উঠুক, কিংবা আমার শরীরের কোন বিশেষ অংশের দিকে তাকাতে তাকাতে পথ চলুক। না, এই ধরণের অসুস্থ প্রিয়গিরি আমরা চাই না। এটাকে ইভটিজিং বলে, অ্যাপ্রিসিয়েশন বলে না। অ্যাপ্রিসিয়েশন আর হ্যাংলামির মধ্যে তফাৎটা বুঝতে হবে। প্রশংসা, স্বীকৃতি, আমার অ্যাপেয়ারেন্স নিয়ে মন্তব্য আমি শুধু তাকেই করতে দিই যাকে আমি স্পেস দিই। একবার অফিস থেকে বাসায যাওয়ার পথে এক শ্বেতাঙ্গ বিদেশী আমাদের পাশ দিয়ে যেতে যেতে আমাকে আর আমার সহকর্মীকে দেখে চিৎকার করে উঠল, “সুন্দরী মহিলা!” কথাটা সে বাংলায় বলেছিল, বিদেশী টানে। আমি আর আমার সহকর্মী সাথে সাথে পিছন ফিরে তাকালাম লোকটার দিকে। আমাদের ক্রুদ্ধ দৃষ্টি দেখে লোকটা চুপচাপ কেটে পড়েছিল। আমি পরে এই ঘটনাটা আমার এক আমেরিকান বন্ধুর সাথে শেয়ার করেছিলাম- ওর ভুল ভাঙানোর জন্য। এই একই ঘটনা কোন বাঙালি ছেলে যদি বিদেশী মেয়ের সাথে করত এটাকে ওরা ইভটিজিং বলত। তাই, ওকে সাবধান করে দিলাম যেন জেনারালাইজেশন করার আগে দুবার ভাবে। 

কোনধরণের জেনারালাইজেশন আমি সহ্য করতে পারি না। সেটা যাদের নিয়েই করা হোক না কেন। এমনকি কেউ যদি বলে পুরুষ মানেই চরিত্রহীন, আধিপত্যকামী জন্তু-তবে সেই কথারও প্রতিবাদ করি আমি। কারণ আমার জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষটিও একজন পুরুষ। যখনই একজন জেনারালাইজেশন করে কথা বলে, তখন তার বৌদ্ধিক স্তর নিয়ে আমার সন্দেহ হয়।

এবার আসি তৃতীয় পয়েন্টে। উনি ‘নারীবাদী’ কথাটিকে অনেকটা গালির মত করে ব্যবহার করেছেন। নারীবাদ এবং মানবতাবাদকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। উনার মতে, নারীবাদীরা মানবতাবাদী নন। আমার প্রশ্ন, নারী কি মানুষের বাইরে? এই পৃথিবীতে অসংখ্য সমস্যা এবং বিষয় আছে। সমস্ত বিষয় নিয়ে সবার সমান ইন্টারেস্ট থাকে না। কে কোন বিষয় নিয়ে কথা বলছেন সেটা নির্দিষ্ট করে বুঝার জন্য পরিবেশবাদী, নারীবাদী, বস্তুবাদী, ভাববাদী বলে ডাকা হয়।  পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয় নিয়ে যারা কাজ করে, তাদের যদি ইতিবাচক অর্থে পরিবেশবাদী বলা যায়, তাহলে নারীদের অধিকার বিষয়ে যারা কাজ করেন তাদেরকে এমন নেতিবাচকভাবে নারীবাদী বলা হবে কেন?

এই কেন-র উত্তর আছে আধিপত্যবাদী পুরুষের মিথ্যে প্রচারণায়। নারীবাদী মানেই দা-কাটারি হাতে মারমুখী কাউকে প্রেজেন্ট করা হয়। সংকীর্ণচিত্ত মানুষের ধারণা, নারীবাদী মানেই পুরুষালি। কপালে টিপ পরা, চোখে কাজল দেয়া নারীবাদীর সংখ্যা কিন্তু অনেক। অথচ, এই সমালোচকরা সেগুলো সযত্নে এড়িয়ে যান। কারণ নারীবাদীকে পুরুষালি প্রমাণ করতে পারলে সেইসব নারীকে আনঅ্যাট্রাক্টিভ (তাদের চোখে) বলে প্রমাণ করতে সুবিধা হয়। এবং তখন নারীবাদকে ফ্রাস্টেশনের ফলাফল হিসেবে প্রমাণ করতেও সুবিধা হয়। অথচ নারীবাদ একটা বিবেকবান মানুষের সচেতন সিদ্ধান্তও হতে পারে। কিন্তু এটা তারা মানবেন না।

এদের জন্য সবচেয়ে উচিত জবাবটা দিয়েছিলনে এমা ওয়াটসন, তার ইউএন স্পীচে। উনি বলেছিলেন, “…my recent research has shown me that feminism has become an unpopular word. Apparently I am among the ranks of women whose expressions are seen as too strong, too aggressive, isolating, anti-men, and unattractive.” । স্পীচের আগে তাকে ফেমিনিজম শব্দটা ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তারা ভেবেছিল, এতে করে তার বক্তব্যের ক্ষেত্রটা সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। উনি তাদের ভুল প্রমাণ করেছিলেন। বক্তব্যের প্রতিটি লাইন দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন কেন নারীবাদ নারী এবং পুরুষ উভয়ের জন্যই প্রয়োজনীয়। উনি বলেছিলেন, “We don’t often talk about men being imprisoned by gender stereotypes, but I can see that they are and that when they are free, things will change for women as a natural consequence”। ভাল কথা, এমা ওয়াটসনকে কার কার যেন আনঅ্যাট্রাক্টিভ মনে হয়? কার কার মনে হয় যে উনি পুরুষের প্রিয় হতে সমর্থ নন? একটু হাত তুলুন, আপনাদের দেখি।

আর হ্যাঁ, কেউ যদি পরিপাটী হয়ে সেজে না থাকে, তবে সেটাও কিন্তু তার ব্যক্তিগত অভিরুচি। অনেক মানুষ টাকা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ জীবন যাপন করতে পছন্দ করেন। ঠিক তেমনি অনেক মেয়ে সাজতে পছন্দ করেন না, জিন্স পরেন। সেটাও তার ব্যক্তিগত ভাল লাগা, ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যাপার। এবং অনেক মেয়েকেই সাধারণ একটা জিন্স পরেও শাড়ির চাইতে বেশি সুন্দর লাগে। কারণ ওটাই তার স্টাইল। সে ওটাতেই স্বচ্ছন্দ। কেউ যদি সংসার করতে না চায় তবে সে স্বাধীনতাও তার আছে। আমি আপনি কে সেগুলো ডিক্টেট করার? এ জগতে অনেক কিছু করার আছে। আপনার হাতে যদি অঢেল সময় থাকে, তাহলে সেগুলোর পিছনে এনার্জি খরচ করুন।

নারীবাদী মানেই পুরুষ বিরোধী নয়। কেউ যদি পুরুষকে নিয়ে কোন খারাপ মন্তব্য করেন, তাহলে সেটা তার ব্যক্তিগত সংকীর্ণতা। এটার সাথে নারীবাদকে গুলিয়ে ফেলার কোন কারণ নেই। আমি কখনো ইচ্ছে করে নিজেকে নারীবাদী বা অ্যাক্টিভিস্ট বলে পরিচয় দিতে যাই নি। কিন্তু আমার কাজগুলোর সাথে নারীবাদ হয়তো মিলে যাবে। কারণ আমি নারী এবং পুরুষ উভয়কেই সম্মান করে চলি।

নারীবাদ মানেই পুরুষের করুণা পিয়াসী নয়। আমি বাসের সীটে বসা অবস্থায় যদি কোন বৃদ্ধ পুরুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি, তাহলে আমার সীটটা তাকে ছেড়ে দিই। ওভারব্রীজের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময়, এক ভদ্রলোককে দেখলাম এক হাতে ক্রাচ নিয়ে আর এক হাতে খোলা ছাতা নিয়ে নামছেন। ভদ্রলোক খোঁড়া নন, তবে হয়তো পা মচকে গিয়েছিল, তাই ক্রাচ নিয়েছেন। ক্রাচের কারণে ডান হাতের ছাতাটা কাত হয়ে গিয়েছে। তাই কাঁধে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে। আমি তার পিছন পিছন নামতে গিয়ে ব্যাপারটা খেয়াল করলাম। জানতে চাইলাম, “ভাইয়া, আপনার ছাতাটা কি আমি সোজা করে ধরব আপনার মাথায়?” অপরিচিত একটা মেয়ের কাছ থেকে এরকম একটা অদ্ভূত কথা উনি প্রত্যাশা করেন নি। একটু অপ্রস্তুত হয়ে হেসে বললেন, “না না ঠিক আছে, ধন্যবাদ।“ ঠিক সেই মুহুর্তে দেখলাম, আমার বাসটা ব্রীজের নীচ দিয়ে চলে যাচ্ছে। তাই, কথা না বাড়িয়ে হুড়মুড় করে নেমে এলাম। তবে উনি ছাতা ধরতে বললে বিনা দ্বিধায় আমি ছাতা ধরতাম। এইসব কাজগুলো যখন আমরা করি, তখন নারী-পুরুষ পরিচয়টা সেখানে মুখ্য নয়। বাস্তব জ্ঞান, এবং মানুষের প্রয়োজনের প্রতি সম্মানবোধটা ওখানে মুখ্য। আবার নারীবাদ মানেই অযৌক্তিক বিদ্রোহ নয়। নৌকা থেকে নামার সময় পিচ্ছিল কাদায় যাতে পড়ে না যাই সেজন্য আমার বন্ধুর বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা আমি বিনা দ্বিধায় ধরি। পুরুষের সাহায্য নেব না শীর্ষক তর্ক সেখানে আমি তুলি না। কারণ আমরা একে অন্যের সাহায্য নিয়েই বাঁচি। 

ওই লেখিকার একটি লেখার বিপরীতে আমি এত লম্বা লেখা কেন লিখলাম? কারণ উনি গোটা লেখাতে ইনিয়ে বিনিয়ে অনেক সমতার কথা বলে শেষ মেষ গিয়ে একটি বোমা ফাটিয়েছেন- “যেকোনো কারণেই হোক পুরুষের নারীর উপর আধিপত্যকে আমি খারাপভাবে দেখি না”। অত্যন্ত ভয়ংকর এবং ক্ষতিকর একটি লাইন। এই একবিংশ শতাব্দীতে কেউ কারো উপর আধিডত্য কেন করবে? আর ঠিক এই লাইনটি এবং লেখার শিরোনামের কারণে বহু পুরুষ এই লেখাটি শেয়ার করে চলেছেন। কিছু ইন্টেলেকচুয়াল নামধারী পুরুষ চক্ষুলজ্জার খাতিরে এই লেখিকার মত এত স্পষ্টভাবে তাদের অভিমতটা জানাতে পারেন না। এই লেখিকা তাদের মুখপাত্র হয়েছেন। আর আমার এবং আমার মত অনেক মেয়ের আপত্তি সেখানেই।

Advertisements

পড়ন্ত কপাল

মানুষের পোড়া কপাল, আর আমার হল পড়া কপাল।
কখনো বাস, কখনো সাইকেল, কখনো রিকশা ইত্যাদি নানাবিধ বাহনের সংস্পর্শে এসে রাস্তা ঘাটে প্রায়ই নিজের পতঞ্জলি দশা দেখি।
আজ আজমপুরে আমার রিকশাকে হঠাৎ করে একটা পিক আপ দিল এক ধাক্কা। প্রথম ধাক্কাটা সামলে ওঠার আগেই দ্বিতীয় ধাক্কা। কায়দা বেকায়দা বিভিন্ন স্টাইলে রিকশার হুডটা ধরে ঝুলে থাকার চেষ্টা করছিলাম। মনে আশা ছিল- ওয়ান্ডার উম্যান না হতে পারি, টিকটিকি বা তেলাপোকা স্টাইলে ঝুলে থাকা যাক। কিন্তু আমার অনুকরণীয় জীবকূলকে কোনদিন ভাল করে অবজার্ভ করা হয় নি বলেই তেনাদের মুখরক্ষা করতে পারলাম না। কাঁধের দুই ব্যাগ নিয়ে পপাত ধরণীতল।
আক্রমণকারী গাড়ি ততক্ষণে আমাকে জানালা দিয়ে এক ঝলক দেখে পগার পার।
দশ পা দূরে গিয়েই সিগন্যালে বেচারা কে থামতে হলো। ছড়ে যাওয়া হাঁটু নিয়ে আমি বিপুল বিক্রমে আমার রিকশাওয়ালাকে নিয়ে পৌঁছে দেখি, এক মোটরসাইকেল আরোহী অপরাধীর কলার ধরে এক একটা ঝাঁকি দিচ্ছে আর একটা করে নতুন নামকরণ করছে। প্রতিটা নামকরণেই অভিনবত্বের ছোঁয়া। ছেলেটার জন্ম পরিচয় একটু একটু করে পাল্টে যাচ্ছে। আমি এগিয়ে যেতেই অন্যরা পথ ছেড়ে দিল।
আমি একটা জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেবার প্রস্তুতি নিয়ে আগালাম।
ওমা, সীটে তো একটা লিকলিকে লিলিপুট বসে আছে ছলছল চোখে। দেখে আমিই বেকুব হয়ে গেলাম। কিন্তু উপস্থিত জনতা অনেক প্রত্যাশা নিয়ে চেয়ে আছে। কারণ আমি মহামান্যা ভিকটিম! আমার ভাবই আলাদা।
আমি তাই গলা চড়িয়ে বললাম, ‘আপনি রাস্তায় আমাকে ফেলে দিয়ে চলে গেলেন! আমি তো আজ মরেও যেতে পারতাম!
দ্বিতীয় লাইনটা বলে আমার আসলেই মরে যেতে ইচ্ছে হল! এত্ত দুর্বল থ্রো আমার ডায়ালগের। আমাকে দিয়ে পারফর্মেন্স হবে না। হতাশ গলায় বললাম, ‘ভাই, যান, বাড়ি যান।’
আহত হাঁটু আর পড়ন্ত কপাল নিয়ে আমিও বাড়ি ফিরে এলাম।

কারাগারের রোজনামচা

“কই গ্রেট বৃটেনে তো কেউ না খেয়ে মরতে পারে না!…জার্মানি, আমেরিকা, জাপান এ সকল দেশে তো কেহ শোনে নাই- কলেরা হয়ে কেহ মারা গেছে? … ওসব দেশে তো মুসলমান নাই বললেই চলে। সেখানে আল্লার নাম লইবার লোক নাই একজনও; সেখানে আল্লার গজব পড়ে না। কলেরা, বসন্ত, কালাজ্বরও হয় না। আর আমরা রোজ আল্লার পথে আজান দিই, নামাজ পড়ি, আমাদের উপর গজব আসে কেন?”

কী মনে হচ্ছে? উপরের লাইনটা কোন নাস্তিকের লেখা? তাহলে শোনেন, ঠিক আগের প্যারায় লোকটা কী লিখেছে!
“এই দেশের হতভাগা লোকগুলি খোদাকে দোষ দিয়ে চুপ করে থাকে। ফসল নষ্ট হয়েছে, বলে আল্লা দেয় নাই, না খেয়ে আছে, বলে কিসমতে নাই।…আল্লা মানুষকে এতো দিয়েও বদনাম নিয়ে চলেছে…ডাক্তারের অভাবে, ওষুধের অভাবে, মানুষ অকালে মরে যায়- তবুও বলবে সময় হয়ে গেছে। আল্লা তো অল্প বয়সে মরবার জন্য জন্ম দেয় নাই। শোষক শ্রেণী এদের সমস্ত সম্পদ শোষণ করে নিয়ে এদের পথের ভিখারি করে না খাওয়াইয়া মারিতেছে।”

কতখানি স্বচ্ছ চিন্তাশক্তি আর অকপটতা থাকলে এইরকম সহজ করে কথাগুলো লেখা যায় ! মানুষটা বুঝিয়ে দিল নিজেকে প্রগ্রেসিভ প্রমাণ করার জন্য অহেতুক ধর্মের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর দরকার নেই, আবার ধার্মিক প্রমাণ করার জন্য হেফাজতিদের তোষণ করারও দরকার নেই। সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস আর নিজের সামর্থ্যের সম্মিলন না ঘটালে মুক্তি নেই। এই সম্মিলন ঘটাতে বুকে বল লাগে, আল্লাহর উপর অগাধ বিশ্বাস ও কাজে সততা লাগে, নিজের লোকগুলোর জন্য আকাশ সমান ভালবাসা থাকা লাগে। পুরো বাংলাদেশকে নিজের সন্তান ভাবা লাগে। আর হ্যাঁ, মানুষটার নামটা শেখ মুজিবুর রহমান হতে হয়। তাহলেই এত সরল ভাষায় এই জটিল কথাগুলো বলা যায়!
অসীম মুগ্ধতা নিয়ে পড়ছি ‘কারাগারের রোজনামচা’। স্যালুট, পিতা।

Being Human

This morning I took a BRTC bus. There was a little girl standing beside my seat. She was around five, not big enough to balance herself in a moving bus. To her mum, she was comparatively bigger than the other child. The poor mum could not take two kids in her arms at the same time. So, the little girl was trying to help herself. I took her on my lap and looked at the back to make sure that her mum knew that she was safe with me. To my surprise, I found the other passengers to be a little uneasy with this situation. Why? Because the girl’s dress suggested that she belonged to a poor family. May be her mum was a garment worker or something like that. I did not mean to start a revolutionary movement with my action. Being a Bangalee woman, to offer my lap to a child seems to be the most natural thing to do. Why does it seem so strange? Being completely unaware of the complexities of life, my Bangalee princess pushed herself a bit more towards me so that she could sit comfortably. I loved that!

Finally, when the bus reached my destination, she went back to her Mum. While I was trying to reach the bus door through the crowd, I had to get the attention of the women standing beside my seat. Being unsure about how to address those ladies (Auntie or Apa), I just said, ‘Excuse me.” That worked!!! The looks on their faces changed. Wow! My prestige among Bangalees was regained by some English words!

Can’t help but mentioning that this is March – the glorious month of Independence! 46 years back, we were united as a nation – we were determined to fight against all sorts of injustices and discriminations. Seems like a myth sometimes.

Tilt Up আয়নাবাজি

একসময় সিনেমার স্ক্রিপ্ট আর বীজগণিতের অঙ্কে কোন তফাৎ ছিল না। চিরচেনা ফর্মুলা, কেবল সংখ্যা বা বর্ণ এদিক ওদিক হতে পারে। গল্পের বিষয়বস্তু ঠিক হওয়ার আগেই প্রযোজক, পরিচালক, আর চিত্রনাট্যকার বসে ঠিক করতেন, ৭টা গান, ৫টা ফাইটিং সিন, ২টা কিস সিন থাকবে , এর মধ্যে ৩টা গানের শুটিং ব্যাংককে হবে। ব্যস, এবার চিত্রনাট্যকারকে বলা হল- এই ফমুর্লায়একটা স্ক্রিপ্ট লিখে দিতে।
বিরক্ত হয়ে যদি ভারতীয় ছবি দেখতে গেলেন তো সেখানেও ফমু‍র্লা। কোন কোন ছবি দেখলেই বোঝা যায, গল্পকে ছাপিয়ে তথাকথিত ‘সাহসী’ দৃশ্য দেখানোই পরিচালকের মূল লক্ষ্য ছিল। কোন্ জিনিসটা গল্পের প্রয়োজনে এসেছে, আর কোনটার কারণে গল্প বানানো হয়েছে- সেটা বোঝার মত বোধবুদ্ধি কিন্ত দর্শকের আছে।
সেদিক দিয়ে #আয়নাবাজি বিরাট ব্যতিক্রম। সমস্ত ফর্মুলাকে উল্টেপাল্টে দিল। একেবারেই অন্যরকম গল্প।
শুরুতে খুব বেশি প্রত্যাশা নিয়ে দেখতে বসি নি। বন্ধুরা একসাথে হ্যাংআউট করতে যাওযাই একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল।
সাথে আমার বিদেশী সহকর্মীটা ছিল। ও বাংলাদেশকে ভালবাসে কিন্তু বাংলাদেশের সক্ষমতা নিয়ে এখনো ওর তেমন ধারণা গড়ে ওঠে নি। আমার খুব ইচ্ছে ছিল ভাল মানের একটা বাংলা ছবি ওকে দেখাব। সে দিক দিয়ে আয়নাবাজি একদম পারফেক্ট মনে হয়েছিল আমার কাছে। মেকিং যে ভাল হবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলাম। কিন্তু শেষ মেশ কী হল, জানেন?ছবি যখন শেষ, যখন নাম উঠতে থাকল, তখন কোন কোন বাঙালি উঠে যেতে থাকল কিন্তু আমার বিদেশী বন্ধু বসেই আছে। বললাম, যাবা না? ও হাঁ করে স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আর একটু থাকি।’ ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন বাজছে- লাগ, ভেল্কি লাগ, আয়নাবাজির ভেল্কি লাগ। আমি বুঝলাম, ভেল্কি লেগে গেছে। অমিতাভ রেজার সৃষ্টির গৌরব তখন আমার বাঙালি বাংলাদেশী সত্তাকে ছুঁয়ে ফেলেছে। ওই বিদেশী তখন আবিষ্ট আর আমি কৃতজ্ঞ অমিতাভের প্রতি।
অভিনযের কথা আর কী বলব? চঞ্চল চৌধুরী ভাল অভিনেতা জানতাম কিন্তু এমন অসহ্য সুন্দর একটা পার্ফরমেন্সের জন্য সত্যিই প্রস্তুত ছিলাম না। প্রতিটা ক্যারেক্টারে যখন চঞ্চলের রুপান্তর ঘটছিল তখন মুগ্ধ হয়ে লক্ষ্য করলাম, একেকজনের ইডিওসিনক্রেসি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক অত্যন্ত মুন্সীয়ানার পরিচয দিয়েছেন। অসংস্কৃত দুশ্চরিত্র প্রথম অপরাধী কথায় কথায় কুঁচকিতে হাত দেয়, দ্বিতীয়জন অপ্রকৃতিস্থের মত ঘাড় গুঁজে তাকিয়ে থাকে আর চিৎকার করে ইংরেজি ফুটায়। তৃতীয় জন তো ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। আত্মগত স্বরে কিছুক্ষণ পর পর রেটরিক কোয়েশ্চেনের মত করে লোকটা ‘হুম’ করে শব্দ করে। তার নিয়ন্ত্রণকামী মানসিকতা প্রকাশরে জন্য এর চেয়ে ভাল কোন বৈশিষ্ট্য কিছু কি হতে পারত? মনে হয় না।
আমার শহরটাকে এর আগে আমার কাছে কোন ছবিই এভাবে তুলে ধরে নি। হলিউডের ছবির তুষারপাত, ছবির মত সাজানো রাস্তাঘাট দেখতে খারাপ লাগে নি কখনো। কিন্তু মনের কোণে এই অনুভূতিটা থাকত যে, ওগুলো সব পরের বাড়ির চিত্র। আমার পারিপাশ্বি‍র্কতার সাথে ওসবের কোন মিল নেই। এমনকি ভারতীয় বাংলা ছবিতে ভাষা আর চেহারায় নিজেদের সাথে এত মিল থাকা সত্তেও কোনদিন নিজের চারপাশটাকে রিলেট করতে পারি নি। ওদের নায়ক নায়িকা কলকাতার যে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যায়, সেটা আমার অচেনা। কিন্তু আয়নাবাজির সেটিং দেখে কিছুক্ষণ পরপর আমার মুখ দিয়ে বের হয়েছে- আরে এটা আমার বাড়ির রাস্তা! আরে এটা অমুক সরণি, দেখেছিস ্ওই ফ্লাইওভারের কাছে গিয়ে শুটিং করছে! সবাইকে ছাপিয়ে বিদেশীটা আবার সবার আগে বলে উঠল, “শ্য্যামা, দেখ, ওল্ড ডাকা”।
আয়নাবাজির এই বিশাল জনপ্রিয়তার মূলে বোধহয় এটাই ছিল। আমরা অনেকদিন পরে একটা মুভি পেয়েছিলাম যেটা আমাদের। সেটিং আামাদের , অ্যাকসেন্ট আমাদের। তবু অভিনয় আর গল্পটা দেশ, কাল, ছাপিয়ে আবেদন তৈরি করতে সক্ষম।
রোমান্সের ক্ষেত্রে মাত্রাবোধ দেখিয়েছে এই ছবি। এটা আমার ভাল লাগার আরো একটা কারণ। বেশিরভাগ পরিচালক ‘সাহসী’ দৃশ্য দেখানোর অজুহাত খোঁজেন। কিন্তু ইনি তার ধারকাছ দিয়েও যান নি। আর তাই, আমি দুবার আয়নাবাজি দেখে ফেলেও তৃতীয়বারের মত আমার মা আর খালামণিদের নিয়ে মুভিটা দেখতে যাওয়ার কথা ভাবছি। কারণ আমার বিব্রত হওয়ার মত কোন কারণ পরিচালক ঘটান নি।
স্বপ্নের মত একটা রোমান্স দেখানো হয়েছে।নায়কের খ্যাতির প্রতি তেমন মোহ নেই। অভিনয় করার জন্য তার রক্ত খেলা করে। তাই সে বাস্তব জীবনে অভিনয় করে। নাটকে সিনেমায কোন চেষ্টা করে নি। নায়িকা ইংরেজি সাহিত্যে লেখাপড়া শেষ করে বাড়িতে বসে আছে সন্তুষ্টচিত্তে। সামাজিক প্রত্যাশার চাপটা যদি না নিতাম, তাহলে আমরা বেশিরভাগ মানুষই বোধহয় নায়িকার মত এরকম একটা শান্ত নিস্তরঙ্গ জীবন বেছে নেওয়ার চেষ্টা করতাম। কিন্তু তা হবার উপায় নাই। তাই পর্দায় কিছুক্ষণ স্বপ্নের মত জীবনটা দেখতে বড় ভাল লাগছিল। নায়িকা রোজ নৌকায় করে নায়ককে দেখতে আসবে। আ কাপ অব কাপুচিনোর বদলে রঙচায়ের জীবনের সৌন্দর্যটাকেই সে বেছে নিচ্ছে। খুব বেশি কিছু না জেনেও ভালবেসে ফেলার রোগটা টিনএজে থাকে। কিন্তু এখানে দুজন ম্যাচিউরড মানুষকে দেখানো হল যারা জীবনটাকে জেনেবুঝে উপভোগ করতে চাইছে।
বৃষ্টির শটগুলো ভাল্লাগছে। এক এক সময় একটা ার্থ প্রকাশ করেছে। কখনো কখনো অসহায়ত্ব, কখনো, ঘোর অন্ধকার জীবনে ঢোকার পূর্বমুহুর্ত আবার কখনো সবকিছু ধুয়ে যাওয়ার ব্যঞ্জনা।
Tilt Up আয়নাবাজি কেন বলছি? কারণ বছরখানেক আগে একবার বাসার গেট দিয়ে ঢোকার সময় অমিতাভ রেজাকে দেখেছিলাম। আমি গেট দিয়ে ঢুকছিলাম আর উনি বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তার মুখটা আমার মোটেই পরিচিত ছিল না। কিন্তু তার চেখের দৃষ্টিটা আমার বড় অদ্ভূত লেগেছিল। কেমন যেন মাথাটা নীচু করে রেখে চোখ উঁচিয়ে তাকানো। তার কিছু লাইভ ভিডিওতেও দেখলাম একই কাহিনী। দৃষ্টিটা দেখে মনে হয়, উনার চোখমুখ বলে উঠছে-Tilt Up! তার দৃষ্টিটা এমন অদ্ভূত বলেই বোধহয় তিনি জগতটাকে আমাদের চাইতে একটু অন্যভাবে দেখেন। আমাদের মত একরৈখিক দৃষ্টি না বলেই হয়ত এমন একটা মুভি বানানো তার পক্ষে সম্ভব হল।।
অবশ্য আমি এখনো ভেবে পাই না, ভদ্রলোক বাংলাদেশী মুসলমান নিয়ে এমন অদ্ভূত বয়ান কেন দিয়েছিলেন? ইচ্ছে করে বিতর্ক সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন? যাতে মানুষ বিষয়টা কী তা বোঝার জন্য হল অবধি যায়?নাকি পুরো পরিবার একসাথে বসে মুভিটা দেখতে পারবে (যেটা ভারতীয় মুভির ক্ষেত্রে হয়ে ওঠে না) এই বিষয়টা বোঝাতে গিয়ে এই কথাটা বলেছিলেন? কী জানি! বড়মাপের শিল্পীরা যে বড় মাপের ব্যবসায়ী হবেন না, এমন তো কোথাও লেখা নেই। তবে উনি ব্যবসা করুন আর যাই করুন, এরকম আরো মুভি বাংলাদেশে তৈরি হোক।

টেইক আ বাও, #অমিতাভরেজা। আপনার অজান্তেই আপনি বহু বাঙালি বাংলাদেশীর ব্যক্তিগত অানন্দ আর গৌরবের কারণ হয়েছেন। আপনাকে ধন্যবাদ।

Magic Diary (Part 1)

November 14, 2012

Bibhu is no one of this world, but his power of analysis and feelings make me think that he too is a human being of flesh and blood like us. Nothing is needed to say to him, he understands by himself. This morning, when sitting in the dining table I was drinking coffee that he made for me, and then he told a very strange thing.

“Ritu,” putting his coffee mug on the table Bibhu asked me, ” I don’t know why it seems to me that you are getting pleasure by harboring a pain within yourself, isn’t it? ” An air of all- knowing psychologist was seen on his face.

“All these are nonsense. Why should I harbor a pain, why? Am I a poet or a beggar to sell my pain to live on?” His words annoyed me so much that I could not help being a little rude.

“Ah, a brilliant metaphor! But this so direct one, I am sure, will extremely enrage the poets.” Saying this, he burst into great laughter.

His laughter always sounds a little different, and pleasing to mind.

“Leave it, man! No one will mind it if he has a little sense of humor. And if he is a real poet, undoubtedly he won’t mind. However, let’s come to the main point, why do you think that I harbor pain within me?”

“It’s true not only for you, but for many others also. When an accident happens in a man’s life, he tries to ignore it, he cannot accept, and then all his mind and heart cry out together saying ‘no, it can’t be. And it ‘s, in the moment of affliction, the first reaction of every human being.”

” What’s the second reaction?”

“Anger. When a man gets into affliction, he becomes angry with the person who causes it, but if there’s no one to blame straightway, then his anger falls on God. Thus men get satisfaction by putting all blames on the poor Creator”.

I could realize very well that every word of these is true to my nature, though I did not tell it. Trying to show indifference in my tone as far as practicable, I asked,” Is it so, then what happens?”

“Then comes the most difficult moment. ” He said,” That means, the moment of taking decision. Some people decide to forget his pains, and find out various strategies as well to keep themselves away from their pains. But some become adamant and ponder over it day and night, all the time, with reason and without reason. This brings to them a feeling of sweet pain. When mosquito bites and if one presses with finger, he gets a feeling, and this is much of like that. You feel pain, but a little pressure on it gives a pleasure as well”.

This amused me much. “You did never experience mosquito bite, then how could you know this? Is there mosquito in your world?” I asked.

“When I come to your house, mosquitoes then bite me! You never use mosquito-coil”.

“Yes, because it burns my eyes, but do you think that to have that painful-sweet feeling I persistently have borne that mishap in mind?”

“No, your case is a little bit different. You want to forget, and yet you don’t do. I’ll make it clear to you in another day, for you need to get ready to go to your office.”

“Disgusting! The suspense is like the situation of a mega serial drama!”

Bibhu smiled a bit and got out of the room.

(To be continued)

এই শুনছ?

সাতসকালে একটা প্রেমপত্র লেখার অফার পেলাম। এক গুরুজন বুদ্ধিটা দিলেন। প্রাপকের নাম শুনে লেখার লোভ সামলাতে পারলাম না। কারণ সেই প্রাপককে আমি বহু বছর ধরে ভালবাসি। কিন্তু সময় করে কখনো তাকে বলা হয় নি।
যারা ইতমধ্যে ভ্রু কুঁচকেছেন তাদের বলছি- বিনা দ্বিধায় পড়তে পারেন। যে বয়সেরই হোন না কেন, যে সম্পর্কেরই হোন না কেন। আপনাদের লজ্জায় ফেলে দেবার মত কিছু আমি লিখি নি।
তুলে দিচ্ছি আমার জীবনে লেখা ভালবাসার প্রথম চিঠি।

” তোমার জন্য একটা সম্বোধন বের করতেই এত সময় লেগে যাচ্ছে! যে শব্দগুলো মাথায় আসছে, তার একটাও তোমার জন্য যথেষ্ট না। প্রিয়তম বলব? না, ওটা ভীষণ সেকেলে। বহু মানুষের যথেচ্ছ ব্যবহারে ওর আসল উষ্নতা কবেই চলে গেছে। ‘প্রিয়তম’ শব্দটার হাল অনেকটা জুড়িয়ে যাওয় চায়ের মত- দুধ, চিনি, চা- সবক’টা উপাদানই তাতে বিদ্যমান। কিন্তু উষ্নতার অনুপস্থিতির কারণে জিনিসটার কোন আবেদন আর নেই। তাই, সম্বোধন বরং থাক। ওটা বাদ দিয়েই শুরু হোক আমাদের কথা।
ভেবেছিলাম, তুমি আমার কাছে কী- সে কথা যদি বলতে শুরু করি, তাহলে হয়ত কথা ফুরোবে না। কিন্তু না, সেকথাও তো শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাবে। কারণ এমন একটা কথা আমার নেই যা তুমি জান না। এমন হলে কি চলে, বল? তাহলে কি কথা বলে সুখ আছে? কিন্তু বহুদিন ধরে তোমার সাথে সাথে াকতে থাকতে এও বুঝেছি, এই জানাটাই তোমার সাথে আমার সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য, সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।
পৃথিবীর আর সমস্ত সম্পর্কে অতি পরিচয়ের গ্লানি আছে, একঘেয়েমির আশঙ্কা আছে। দুজন দুজনকে বেশি করে জানলে আগ্রহ হারিয়ে ফেলার ভয় আছে। কিন্তু তুমি এত সৃষ্টিছাড়া, এত বিচিত্র যে সেসবের বালাই তোমার নেই। আমার প্রতিটি কোষ, প্রতিটি রক্তবিন্দু তোমার পরিচিত বলেই আমি এত বেশি করে তোমার। আমাকে এত বেশি জান বলেই আমার প্রতি বিরক্ত হবার কোন সম্ভাবনাই আর নেই। নিজেকে পুরোপুরি, জানার পরেও নিজের প্রতি টান মানুষের যায় না, ঠিক সেইভাবে আমাকে পুরোপুরি জেনেও তুমি সমান মনোযোগ দিয়ে আমাকে ভালবেসে যাচ্ছ।
আচ্ছা, আমি তোমাকে কীভাবে ভালবাসি? এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা তুমি। আমাকেও তো তুমিই সৃষ্টি করেছ। এত সৃষ্টির ভিড়েও তুমি আমার মত অযোগ্য সৃষ্টির সমস্ত খুঁটিনাটি লক্ষ্য রাখ। এত অবাধ্যতার পরেও তুমি আমার প্রার্থনার উত্তর দিয়েছ। আমাকে শুধরে দিচ্ছ। আমার যন্ত্রণার মুহুর্তগুলোতে আমার পরম আশ্রয় হবার জন্য ধন্যবাদ। আমি না বললেও প্রতিটা মুহুর্ত পাশে থাকবে জানি।
ইতি, তোমারই শ্যামা।

শুদ্ধতম অনুভূতি

পৃথিবীর শুদ্ধতম অনুভূতির নাম স্নেহ। ভালবাসার অন্য সমস্ত ফরম্যাটের সূচনাতে আদান- প্রদানের একটা বিষয় থাকে। কিন্তু স্নেহ জিনিসটা শুরুই হয় একটা লস প্রজেক্ট হিসাবে।
বিষয়টা আগে বুঝি নি। মা-বাবার একমাত্র সন্তান তো। পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিলাম বহুদিন। ভালবাসা পাওয়াটা একটা স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। কেউ ভালবাসলে প্রতিদানে আমিও তাকে ভালবাসতাম। আমি আগ বাড়িয়ে কাউকে ভালবাসিনি। দরকার পড়ে নি। কিন্তু হঠাৎই একদিন সব হিসাব এলোমেলো করে দিল একজন।
ছোট্ট একটা মানুষ। ১৮ ঘন্টা ঘুমিয়ে থাকে। কোলে নিতে গেলে কাপড়- চোপড় নোংরা করে দেয়। মাঝে মাঝে পিট পিট করে তাকায়। আমি যে ওর কে তা আলাদা করে জানেও না। কিন্তু আমি ওর অনেক কিছু জেনে গেছি। লাল জিনিস দেখলে ও সেইদিকে তাকিয়ে থাকে। ও যখন ভ্যা ভ্যা করে কাঁদে, তখন ওকে কোলে নিয়ে ঝাঁকালে ও হেসে ফেলে। ওর থুতনিটা ছিল একটা সুইচের মত। টিপ দিলেই হাসত। কিন্তু তবু ও লস প্রজেক্ট। ভালবাসার জবাবে ফিরতি ভালবাসা দিতে পারে না। মুখে কথাই যে ফোটে নি। তবু এই ছোট্ট মানুষটাকে ভালবেসেই চললাম।
ওর প্রতি আমায অব্যাখেয় ভালবাসার কারণে অন্য সমস্ত ভালবাসার ব্যাখ্া বুঝতে শুরু করলাম। মা-বাবা কী কারণে, কোন আনন্দে সন্তানকে ভালবসেন সেটা বুঝলাম। ওকে দশ মিনিট সামলাতে গিয়েই আমার অবস্থা খারাপ হয়ে যেত। আর সৃিষ্টিকর্তা অামাদের মত নাদান সৃষ্টিকূলকে কীভাবে সহ্য করেন তা ভাবতেই আমার ঈশ্বর ভক্তি আরো বেড়ে গেল। ও আমার জীবনে না আসলে আমি জানতামই না ভালবাসা পাওয়ার চাইতে দেওয়াতেই বেশি আনন্দ। স্নেহ মানুষকে মানবিক করে , পরিশীলীত করে। আমাকে একটু হলেও মানবিক করে তোলার ক্রেডিটটা তার পাওনা।
আমার জীবনে প্রথম স্নেহের উৎসই হল সে-
প্রজ্ঞা পারমিতা। আমার ছোট বোন। প্রচণ্ড বুদ্ধিমতী। কিন্তু অসহ্য রকম দুষ্টু। আশ্চর্য রকম মিষ্টি। অাগামীকাল ওর জন্মদিন। ঈশ্বর ওর মঙ্গল করুন।
12472612_10209105669503138_8311510734798069850_n

দেশী শব্দের বিদেশী স্রষ্টা

আমার বিদেশী সহকর্মীটা ইদানীং বেশ আগ্রহ নিয়ে বাংলা শিখছে। শব্দ নিয়ে মজা করতেও শিখে গেছে।

ওর আমেরিকান মুখে দ/ধ মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। বন্ধু হয়ে যায় বন্দু; বন্দুক হয়ে যায় বন্ধুক। সেদিন শব্দদুটো ঠিক করে নিতে আসল আমার কাছে। বুঝিয়ে দে্য়ার পরে অদ্ভূতুড়ে উচ্চারণে বলল, ‘আচ্ছা! বন্দু আর বন্দুকের মধ্যে তো দেখছি শুধু একটা ‘ক’ পরিমাণ দুরত্ব! বাঙালি বন্ধু যে কখন বন্দুকের মত ভয়ংকর হয়ে যাবে. কে জানে!’ তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “আর তুমি যেহেতু মেয়ে, অতএব, তুমি রেগেে গলেে আর বান্ধবী থাকবা না, হয়ে যাবা ‘বান্ধবিক’ !”

আমার এই মহাপাজি ছাত্রটা যতটা না শেখে, তার চাইতে বেশি ভাষাকে ভাঙচুর করে।

বন্ধু দিবস ২০১৫

ক্লাস এইটের স্কলারশিপ পরীক্ষা। স্কলারশিপ পরীক্ষার জন্য সিলেক্টেড হওয়াটাও আমাদের মত ব্যাকবেঞ্চারের কাছে একটা সেইরকম খবর ছিল। বাংলাদেশ কখনো বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য চান্স পেলে যেমন অবস্থা হবে আমাদেরও ঠিক তেমন অবস্থা ছিল। স্কলারশিপ জেতার কোনরকম উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না। রিল্যাক্সমুডে বসে বসে এক ঝাঁক ব্রিলিয়ান্টদের দিকে চেয়ে দেখছিলাম। আমরা দুই বন্ধু প্রায় পরপর বেঞ্চিতে বসেছি। মাঝে কাবাব মে হাড্ডি হয়ে বসে আছে এক অতিমাত্রায় ভাল ছাত্রী। সেই সিরিয়াস ছাত্রীটি তার মনগড়া কোন কারণে আমাকে লেখাপড়ায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করত (তার আর আমার সিরিয়াল খুব কাছাকাছি থাকত বলেই হয়ত।)। অথচ তার এতটা মনোযোগের যোগ্য আমি ছিলাম না। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার অদ্ভূত কোন খেয়ালে আমার চেহারাটা দেখে গোড়ার দিকেই কেউ কেউ আমাকে ভাল ছাত্রী বলে ধরে নেন। যাহোক, সেই মহামান্যা এক্সাম হলে বসে সিদ্ধান্ত নিলেন- নিজে যদি স্কলারশিপ নাও পান তবু আমারটা যে করেই হোক আটকে দেবেন। সেদিন অঙ্ক পরীক্ষা। অঙ্কে আমার সাংঘাতিক ভীতি। যে কয়টা পারি করে চুপচাপ বসে থাকলাম। এদিকে আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের তো মন মানেনা। ও অঙ্কে ভীষণ ভাল। ও চাইছে এই শেষ পনের মিনিটে আমাকে হেল্প করতে। কিন্তু ঠিক যে অঙ্কটা আমার করা বাকি আছে, সেটা ও করে নি। ও সামনের সেই ব্রিলিয়ান্টকে কাকুতি মিনতি করতে লাগল- প্লীজ, আমাকে কিচ্ছু দেখাতে হবে না। আমি তোমাকে একটা বলে দেব। তার বদলে শ্যামাকে ওই অঙ্কের সূত্রটা একটু বলে দাও। আমি জানি, তুমি ওই অঙ্কটা করেছ।“ আমার বেঞ্চ থেকে আমি শুনতে পাচ্ছিলাম। মজার কথা হল, পরীক্ষার হলে দেখাদেখির প্রতিভা আমার শুন্য। মেয়েটি দেখাতে চাইলেও আমি দেখে উঠতে পারতাম না। মেয়েটি হাসিমুখে খাতা ঢেকে বসে থাকল। আমার বন্ধুটা অসহায় মুখে দুই বেঞ্চ দুরত্ব থেকে ড্যাবড্যাব করে চেয়ে থাকল। পরীক্ষা শেষে বরাারের মতই দাঁত বের করতে করতে বের হয়ে এলাম। কিন্তু আমার বান্ধবীর চোখ জলে টলমল করছে। সে আপ্রাণ চেষ্টা করছে জল আটকে রাখার। আমি ওই অঙ্কটা করতে পারি নি-এই দু:খ ও ভুলতে পারছে না। ওকে সেদিন কিছু বলি নি। মনে মনে ভাবলাম, “যদি ওই মেয়ের কাছে দেখতাম, সেটা হত আমার সারাজীবানের কলঙ্ক। আর ও দেখায় নি বলেই আমি তোকে চিনলাম। জানতে পারলাম, বন্ধুত্ব এত নি:স্বার্থ হতে পারে। ওই অসীম শত্রুভাবাপন্ন মেয়েটির কাছে আমি কৃতজ্ঞ।“
বলা বাহুল্য স্কলারশীপ পাই নি। কিন্তু তার বদলে গোটা স্কুলজীবনে যা পেয়েছি, তার তুলনা নেই। আমরা পাঁচ বাঁদর নিজেদের নাম দিয়েছিলাম-পঞ্চ পান্ডব। বিজ্ঞান ভবনের ছোট দুই সীটের ডেস্ক সেট- আপ আমাদের মনে ধরে নি। সমস্ত গার্ড আর বুজিদের নজর এড়িয়ে কলা ভবন থেকে পাঁচ জন বসার মত বেঞ্চি টেনে নিয়ে গিয়েছিলাম বিজ্ঞান ভবনের দুই তলায়। বসব যখন, পাঁচজনই একসাথে বসব। কেউ এক টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়ে যা কিছু নোট, সাজেশন্স পেত- সব কিছু নিজ দায়িত্বে সে-ই পাঁচ কপি করে ফেলত। নোট নিয়ে অতি কাছের বন্ধুদের মধ্যেও অনেক কূটনামি দেখেছি। আমাদের মধ্যে সেটা ছিল না।
আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যাকে পেলাম তার মাথার সাথে আমার ওয়াইফাই কানেকশন ছিল। কোনকিছু মুখে বলা লাগত না। এমনিই বুঝে যেতাম। দুই বন্ধু সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে বসে বসে উল্টোপাল্টা গল্প করে যাচ্ছি। দুপুর সাড়ে বারটার বাসটা ধরার কথা। ১২.২৫ এর সময় দুজন একসাথে বলে উঠতাম। “ধুর, এখন এখান থেকে মলচত্বরে পৌছানো যাবে না। ১.২০ এর বাসে যাব।” মজার ব্যাপার হল, ১.১৫ বাজলেও এই একই রিয়ালাইজেশন হত। এরকম করতে করতে প্রথম দুই বছরে প্রায় প্রতিদিনই বাড়ি ফিরতাম ক্ষণিকার লাস্ট বাসটা ধরে। বন্ধুত্ব বোধহয় এমনই। ছোটবেলায় পড়ে আসা ‘সময়ের মূল্য” রচনাকে নিমেষে ভুলিয়ে দিতে পারে।
কোন কোন বছর, পঞ্চপান্ডবের কারো জন্মদিনে আমি যখন খুব ভাব নিয়ে ফোন করে “’হ্যাপি বার্থডে টু ইউ’ গানটা গেয়ে উইশ করি, তখন ওপাশ থেকে সে বলে ওঠে, “ ফালতু ভাব মারিস না। তা, এ বছর কে মনে করিয়ে দিল, ববি, তাশা, নাকি মৌলি?” আমার কোন খোঁড়া যুক্তি তখন কাজে আসে না। বন্ধুত্ব বোধহয় এমনই। ভুলোমনা বন্ধুর স্টুপিডিটি মেনে নিয়ে, তার উপর হম্বি-তম্বি করে আবার তাকে কাছে টেনে নেওয়া।
চাকরিজীবনে এসে যাদেরকে পেয়েছি, তারা আমার মত একটি টিউবলাইটকে কেন এবং কী কারণে এত সহ্য করে আমি জানি না। আমার প্রতিটি দুর্বলতা মেনে নিয়ে নিজের ঘাড়ে এক্সট্রা চাপ নিয়ে এরা কী আনন্দ পায় আমি বুঝি না। তাদের কেউ কেউ আবার দেশ কাল সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে বারবার মনে করিয়ে দেয়, “তুমি আমাকে সহ্য করতে না পারলেও কিছু করার নেই। যেখানেই থাকি, আমি তোমার জীবন থেকে সরছি না।” কেউ আবার মনে করিয়ে দেয়, ‘তোর ভালবাসাব ধার ধারি না। আমার কাজ আমি করে যাব।” কেউ আবার অসীম নির্ভরতার দৃষ্টিতে চেয়ে আমার মত অভাজনকেও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
আমার জীবনের বেস্টফ্রেন্ডদের একজনকেও আমি সিলেক্ট করি নি। নিজে আগ বাড়িয়ে কারো সাথে বন্ধুত্ব করার প্রতিভা আমার নেই বললেই চলে। তবু এরা আমার বন্ধু হয়ে আছেন। মেনে নিতেই হয়, এরা ঈশ্বরের মনোনীত। আমার বন্ধুদের মত ধৈর্যশীল জীব খুব কমই হয়। আমার মত একগুঁয়ে, বদমেজাজী, অালসে, অমিশুকে, ভুলোমনা, অসামাজিক, ঘরকুনো প্রজাতির প্রাণীকে যারা দিনের পর দিন সহ্য করে চলেছেন, তারা নি:সন্দেহে ঈশ্বরের বিশেষ সৃষ্টি। আমার চোখে তারা ছোটখাট মহামনীষী।

(বন্ধু দিবস ২০১৫ উপলক্ষে লেখা)

(আগস্ট ২, ২০১৫)